তাসকিনের বিধ্বংসী রূপ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে গাভাস্কারের ভবিষ্যদ্বাণী

অ্যাডিলেইড ওভালের প্রেসবক্স সংলগ্ন ডাইনিং এরিয়ায় যখন সাইমন ডুলকে পাওয়া গেল, তিনি তখন ধারাভাষ্যের ব্যস্ততার ফাঁকে কিছুটা সময় কাটাচ্ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের এই সাবেক পেসার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার হাসিমুখে সাক্ষাৎকারের অনুরোধ এড়িয়ে গেলেও তাসকিন আহমেদ প্রসঙ্গে নিজের উচ্ছ্বাস লুকাতে পারলেন না। ডুলের মতে, তাসকিন এখন এক পরিপূর্ণ ফাস্ট বোলার এবং বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল সম্পদ। শুধু ডুল নন, বিশ্বমঞ্চে তাসকিনের বোলিং দেখে মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়েছে অনেকের মনেই। ২০১৫ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়া কিংবা ২০১৬ সালে অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার সেই দিনগুলো পেরিয়ে তাসকিন এখন অনেক বেশি পরিণত।

পরিসংখ্যান ও মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন

পরিসংখ্যানই তাসকিনের এই বদলে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। চার ম্যাচে আট উইকেট শিকারের পাশাপাশি তিনি যে নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন, তা এক কথায় দুর্দান্ত। বিশেষ করে আসরের মূল পর্বে মাত্র ১৫ ওভার বল করে ৫৪টি ডট বল দেওয়া তাঁর একাগ্রতারই প্রমাণ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে কোহলি-রাহুলদের মতো ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছিলেন তিনি। রোহিত শর্মার ক্যাচটি হাতছাড়া না হলে সেই স্পেলটি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারত।

এক সময় তাসকিন শুধুই গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে চাইতেন, কিন্তু এখন তিনি পরিস্থিতির দাবি মেনে বোলিং করেন। আগ্রাসনের সঙ্গে শৃঙ্খলার মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি নিজের শক্তির জায়গায় আস্থা রাখছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, তিনি তৃপ্ত নন এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার তাড়না থেকেই প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ: ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ ও গাভাস্কারের বিশ্লেষণ

তাসকিনের মতো বোলাররা যখন নিজেদের শানিয়ে নিচ্ছেন, তখন আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ও বিন্যাস নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের একই গ্রুপে থাকা প্রসঙ্গে তিনি কোনো রাখঢাক করেননি। স্পোর্টসস্টারে লেখা এক কলামে তিনি উল্লেখ করেছেন, টুর্নামেন্টের আকর্ষণ ধরে রাখতে এবং অন্তত একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ নিশ্চিত করতেই আইসিসি সর্বদা এই দুই দলকে একই গ্রুপে রাখে।

আসন্ন আসরে ‘গ্রুপ এ’-তে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গী নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। গাভাস্কারের মতে, এই গ্রুপটি বেশ সহজ এবং বড় দুই দলের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। তাই টুর্নামেন্টের আসল লড়াই বা ‘রিয়েল ব্যাটল’ মূলত গ্রুপ পর্ব পেরোনোর পরেই শুরু হবে বলে মনে করেন তিনি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান ও বাস্তবতা

তবে গাভাস্কার সতর্ক করে দিয়েছেন, ছোট দলগুলো এখন আর আগের মতো পিছিয়ে নেই। বিশেষ করে ২০২৪ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের স্মৃতি এখনো টাটকা। মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটাররা এখন বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে করে বড় দলগুলোর প্রতি তাদের ভীতি বা ‘আড়ষ্টতা’ কেটে গেছে। প্রস্তুতির ধরন ও ব্যর্থতা সামলানোর কৌশলগুলো তাঁরা খুব কাছ থেকে শিখছেন, যা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শেখাতে পারে না। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য উদীয়মান দলগুলো যে কোনো মুহূর্তে অঘটন ঘটাতে পারে, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।