বিপিএলে অব্যবস্থাপনার ছায়া: ঘন ঘন সূচি বদলের সঙ্গে বকেয়া পারিশ্রমিকের বিতর্ক

মাঠে বল গড়ানোর আগেই কয়েকবার হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সূচি। খেলা শুরু হওয়ার পরও নানা অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে তাতে বদল আনতে হয়েছে বারবার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে দু’দফায় টুর্নামেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনে কর্তৃপক্ষ। তবে আগের নির্ধারিত তারিখেই পুরো আসর শেষ করতে আয়োজকরা বদ্ধপরিকর। আর এ লক্ষ্যেই টুর্নামেন্টের বাকি অংশের ভেন্যু ও ম্যাচগুলোর সময়ে বেশ কিছু রদবদল করে নতুন সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পরিবর্তিত সূচি একনজরে

তারিখ ও দিন ম্যাচ সময় ভেন্যু
২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার সিলেট টাইটান্স-রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দুপুর ২টা সিলেট
২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার নোয়াখালী এক্সপেস-চট্টগ্রাম রয়্যালস সন্ধ্যা ৭টা সিলেট
২৭ ডিসেম্বর, শনিবার ঢাকা ক্যাপিটালস-রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দুপুর ১টা সিলেট
২৭ ডিসেম্বর, শনিবার সিলেট টাইটান্স-নোয়াখালী এক্সপ্রেস সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
২৯ ডিসেম্বর, সোমবার রংপুর রাইডার্স-চট্টগ্রাম রয়্যালস দুপুর ১টা সিলেট
২৯ ডিসেম্বর, সোমবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-নোয়াখালী এক্সপ্রেস সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সিলেট টাইটান্স-ঢাকা ক্যাপিটালস দুপুর ১টা সিলেট
১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রংপুর রাইডার্স-রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
২ জানুয়ারি, শুক্রবার ঢাকা ক্যাপিটালস-চট্টগ্রাম রয়্যালস দুপুর ২টা সিলেট
২ জানুয়ারি, শুক্রবার সিলেট টাইটান্স-রংপুর রাইডার্স সন্ধ্যা ৭টা সিলেট
৪ জানুয়ারি, রোববার সিলেট টাইটান্স-চট্টগ্রাম রয়্যালস দুপুর ১টা সিলেট
৪ জানুয়ারি, রোববার ঢাকা ক্যাপিটালস-রংপুর রাইডার্স সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
৫ জানুয়ারি, সোমবার নোয়াখালী এক্সপ্রেস-সিলেট টাইটান্স দুপুর ১টা সিলেট
৫ জানুয়ারি, সোমবার চট্টগ্রাম রয়্যালস-রংপুর রাইডার্স সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
৭ জানুয়ারি, বুধবার ঢাকা ক্যাপিটালস-নোয়াখালী এক্সপ্রেস দুপুর ১টা সিলেট
৭ জানুয়ারি, বুধবার চট্টগ্রাম রয়্যালস-সিলেট টাইটান্স সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
৮ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার নোয়াখালী এক্সপ্রেস-রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দুপুর ১টা সিলেট
৮ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ঢাকা ক্যাপিটালস-সিলেট টাইটান্স সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
৯ জানুয়ারি, শুক্রবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-চট্টগ্রাম রয়্যালস দুপুর ২টা সিলেট
৯ জানুয়ারি, শুক্রবার নোয়াখালী এক্সপ্রেস-রংপুর রাইডার্স সন্ধ্যা ৭টা সিলেট
১১ জানুয়ারি, রোববার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স- রংপুর রাইডার্স দুপুর ১টা সিলেট
১১ জানুয়ারি, রোববার নোয়াখালী এক্সপ্রেস-ঢাকা ক্যাপিটালস সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
১২ জানুয়ারি, সোমবার সিলেট টাইটান্স -রংপুর রাইডার্স দুপুর ১টা সিলেট
১২ জানুয়ারি, সোমবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-ঢাকা ক্যাপিটালস সন্ধ্যা ৬টা সিলেট
১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রয়্যালস-নোয়াখালী এক্সপ্রেস দুপুর ১টা ঢাকা
১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-সিলেট টাইটান্স সন্ধ্যা ৬টা ঢাকা
১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার রংপুর রাইডার্স-ঢাকা ক্যাপিটালস দুপুর ২টা ঢাকা
১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার চট্টগ্রাম রয়্যালস-রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সন্ধ্যা ৭টা ঢাকা
১৭ জানুয়ারি, শনিবার রংপুর রাইডার্স-নোয়াখালী এক্সপ্রেস দুপুর ১টা ঢাকা
১৭ জানুয়ারি, শনিবার চট্টগ্রাম রয়্যালস-ঢাকা ক্যাপিটালস সন্ধ্যা ৬টা ঢাকা

মাঠের এই সূচি বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠের বাইরের আরেক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা অলরাউন্ডার নাসির হোসেন সম্প্রতি বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তিবদ্ধ পারিশ্রমিকের সিংহভাগই এখনো বকেয়া রয়ে গেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ হাতে পেয়েছেন তিনি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পেশাদারিত্ব এবং টুর্নামেন্টের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি নিয়ে স্বভাবতই এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠছে।

আশ্বাসের বেড়াজালে খেলোয়াড়রা

নাসিরের মতে, দলের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রতিশ্রুতির পর কেবল প্রতিশ্রুতিই জুটছে। নিজেদের একটি টিম গ্রুপের কথা উল্লেখ করে এই অলরাউন্ডার জানান, সেখানে নিয়মিত মেসেজ দেওয়া হলেও কেবল ‘কাল বা পরশু দেওয়া হবে’ গোছের আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বকেয়া টাকা আর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না।

নিজের একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের সামনে হতাশা লুকাননি নাসির। তিনি বেশ কড়া ভাষাতেই বলেছেন, যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়াই উচিত নয়। বিসিবি ঠিক কীসের ভিত্তিতে দলগুলোর মালিকানা হস্তান্তর করে, সেটি নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। বাইরে থেকে ঢাকা ক্যাপিটালসকে বেশ পেশাদার মনে হলেও ভেতরের আর্থিক দৈন্যদশা এখন সবার সামনে উন্মোচিত।

বিসিবির নজরদারি ও ব্যাংক গ্যারান্টির ভরসা

এই ঘোলাটে পরিস্থিতিতে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে পুরো বিষয়টি বোর্ডের নজরদারিতে রয়েছে। নাসির জানিয়েছেন, ইফতেখার মিঠু তাদের ভরসা দিয়েছেন। চলতি মাস পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে বোর্ড। যদি এর মাঝে তারা পাওনা মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে ঢাকার জমা রাখা ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা থেকে খেলোয়াড়দের বকেয়া বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে, তবে টাকা মার যাওয়ার ভয় অন্তত থাকছে না।

ক্ষুণ্ন হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি ও লিগের মান

পারিশ্রমিক নিয়ে এই টালবাহানা শুধু দেশীয় ক্রিকেটারদেরই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করেন নাসির। বিদেশি খেলোয়াড়রা এসে যদি টাকা না পান, তবে তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে বাংলাদেশের নেতিবাচক সমালোচনাই করবেন। তারা বলবেন এখানকার পেমেন্ট সিস্টেম বাজে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নির্ভরযোগ্য নয়। বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টির এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এমন বদনাম বিদেশি খেলোয়াড়দের আকর্ষণ ও স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আক্ষেপের সুরে নাসির এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, লিগের মান দিন দিন এতটাই নিম্নমুখী হচ্ছে যে, কখনো কখনো জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় এর চেয়ে বেশি দর্শক দেখা যায়। বোর্ড যদি দল দেওয়ার আগে মালিকদের ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিকমতো যাচাই না করে, তবে অচিরেই বিপিএলের মান পাড়ার ক্রিকেটের চেয়েও নিচে নেমে যাবে। পারিশ্রমিকের এই হাল এবং মালিকদের এমন অপেশাদার আচরণ চলতে থাকলে বিপিএলের ভবিষ্যৎ সত্যিই বড় প্রশ্নবিদ্ধ।